ঢাকামঙ্গলবার , ২৭ এপ্রিল ২০২১
  1. অগ্নিকাণ্ড
  2. অপরাধী
  3. আইন-আদালত সাজা
  4. আত্মহত্যা
  5. আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  6. আবহাওয়া
  7. ইতিহাসের এই দিনে
  8. ইসলাম
  9. কলামিস্ট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. গণমাধ্যম
  15. জাতীয় সংবাদ

আধা শতাধিক লুটেরার এক অশুভ পাপচক্রের হাতে জিম্মি এ রাষ্ট্র-মারুফ কামাল খান

বার্তাকক্ষ
এপ্রিল ২৭, ২০২১ ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আধা শতাধিক লুটেরার এক অশুভ পাপচক্রের হাতে জিম্মি এ রাষ্ট্র

মারুফ কামাল খান

আধা শতাধিক লুটেরার এক অশুভ পাপচক্রের হাতে জিম্মি এ রাষ্ট্র। শাসক-প্রশাসকেরা ওদেরই দাসানুদাস। চট্রগ্রামে এস আলমের বিদ্যুৎ প্রকল্পে পাখির মতন গুলী করে শ্রমিক হত্যার ঘটনায় এ কথা লিখেছিলাম। তারপর সপ্তাহ খানেক সময় গেছে। এর মধ্যে জানা গেলো, বেক্সিমকো কোম্পানি তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থে মস্ত চাপ দিয়েছে এবং সে চাপে সরকার এমনই চিড়ে চ্যাপ্টা হয়েছে যে, সুযোগ থাকা সত্বেও ভারতের সিরাম কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো সূত্র থেকে কোভিড-১৯ এর টিকার জন্য চুক্তি করতে পারে নাই।

ফলে এই মহামারীতে আমাদের দেশের ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচি হোঁচট খেয়ে থমকে গেছে। এখন ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ‘বসুন্ধরা’র শাহ্ আলমের এক পোলার জঘণ্য পাপের তরতাজা কাহিনীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে।

বিত্তের কুৎসিত অনাচার ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ফাঁদে পড়ে যৌনপণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবার পর একটি কিশোরী প্রাণ ঝরে গেছে। গরীব ঘরের ১৭/১৮ বছরের পিতৃহীন একটা কিশোরী মেয়েকে প্রবল প্রতিপত্তিশালী ও বিত্তবান ৪০/৪২ বছরের একটা দামড়ার পক্ষে ছলাকলার ফাঁদে ফেলে রঙিন জীবনের স্বপ্নে বিভোর করে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলিং ও ফাঁসিয়ে দিয়ে বিভ্রমের এক ফাঁদে আটকানো কোনো কঠিন কাজই নয়। সেই ফাঁদই বালিকাটির জন্য অবশেষে মৃত্যুফাঁদ হয়ে দেখা দেয়। এই অপমৃত্যুর দায় কেবল লাম্পট্যপ্রবণ এক লুটেরা ধনীর দুলালের নয়, ওর পরিবারের অন্যদের সংশ্লিষ্টতার আভাসও মিলছে।

কেউ কেউ এখন দু’পক্ষের অপরাধ মাপার নৈতিক বাটখারা নিয়ে বসে যাবেন। মূল অপরাধীর পাপকে লঘু করে দেখিয়ে মতবিভ্রম তৈরিতে নামবেন। লাখ টাকার ফ্ল্যাট, কিশোরীর লোভ, রূপের হাতছানি ও তার পরিবারের প্রশ্রয়ের পরিণতিতে মৃত্যু ডেকে আনার সরল গল্প ফাঁদা হবে। আড়াল করা হবে মেয়েটিকে পণ্যের মতো ব্যবহার করা, প্রতিপত্তিশালীর ভোগের কাছে তার সমস্ত ইচ্ছা-অনিচ্ছা বিসর্জন দিয়ে কলের পুতুলে পরিণত হওয়া এবং অবশেষে মিথ্যা অভিযোগের পথ ধরে পথের কাঁটা সরিয়ে ফেলার বাস্তবতা।

এদেশে আইন তার স্বাভাবিক গতিতে চলেনা। আইন সকলের জন্য সমানও নয়। রাজনৈতিক ভিন্নমত দলন ও ভিন্নমতাবলম্বীদের হেনস্তা করতে চোখের পলকে কতো মিথ্যা বানোয়াট মামলা হয়ে যায়! ক্ষমতাসীনেরা ও তাদের স্তাবক মিডিয়া তিলকে তাল করে নেমে পড়ে বিরোধীমতের অভিযুক্তের চরিত্রহণনে। কিন্তু প্রকৃত অপরাধী ও লুটেরা চক্রের পাশে রাষ্ট্রের বড় বড় নির্বাহী ও শাসন-প্রশাসনের কেউকেটাদের ছবি জ্বলজ্বল করে। সে-সব ছবিই ওদের নিরাপত্তার বর্ম হয়ে দাঁড়ায়। হয়ে দাঁড়ায় প্রতিকারহীন ধারাবাহিক অপরাধের খোলা ছাড়পত্র।

এদেশে অপরাধীর বিচার দাবি করতে হয়। কিন্তু দাবি করলেই কি বিচার মেলে? বিচারের প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার শোনা যায়। তারপর ঢাকঢাক গুড়গুড় অথবা সময়ক্ষেপন ও বিচারের নামে প্রহসন করে বাঁচিয়ে দেয়া হয় প্রতিপত্তিশালী দুর্বৃত্তদের। এমন একটা রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের জন্যই কি এতো জীবন, এতো রক্ত দিয়েছিল এদেশের মানুষ?

প্রিয় পাঠক, ডেইলি খবরের ডটকমে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন khoborernews@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

x
%d bloggers like this: