ঢাকারবিবার , ২ মে ২০২১
  1. Campas
  2. International news
  3. Media
  4. Parson
  5. অগ্নিকাণ্ড
  6. অপরাধী
  7. আইন-আদালত সাজা
  8. আত্মহত্যা
  9. আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  10. আবহাওয়া
  11. ইতিহাসের এই দিনে
  12. ইসলাম
  13. কলামিস্ট
  14. কৃষি
  15. ক্যাম্পাস

একাত্তরের রমজানঃ গণহত্যা ও নির্যাতন- সামছুল আলম সাদ্দাম 

বার্তাকক্ষ
মে ২, ২০২১ ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

একাত্তরের রমজানঃ গণহত্যা ও নির্যাতন

সামছুল আলম সাদ্দাম 

২৭শে রমজান শবে কদরের দিনে পাকিস্তানি মুসলমান সেনারা টাঙাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামে চালিয়েছিলো নির্মম গনহত্যা।

গ্রামবাসীর পক্ষে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বিশা মন্ডল, কৌশলে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পিটিয়ে পুকুরের পানিতে নামিয়ে চুবিয়ে মারার চেষ্টা করেন। কিন্তু আরো কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা এসে বিশা মন্ডলকে পাড়ে তুলে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে, হত্যা করার পর আগুনে নিক্ষেপ করে।

এই গণহত্যায় শহীদ হয়েছিলেন পৃথিবীর আলো দেখা মাত্র ১৫ দিনের শিশু রাবেয়া ও তাঁর অসুস্থ মা সাজেদা। সাজেদা বেগম শিশুকে কোলে নিয়ে আল্লাহর দোহাই দিয়ে পাকিস্তানি মুসলমান সেনাদেরকে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর এই অনুরোধ অপরাধ হিসেবে দেখে নরপিশাচেরা, ধাক্কা দিয়ে মা ও শিশুকেই আগুনের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল, পরবর্তীতে মা ও মেয়ে দুজনেই মারা গিয়েছিলেন।

তাঁর স্বামী ওমর আলী অন্য ঘরে মায়ের পাশে বসে কুরআন তেলাওয়াত শুনছিলেন, তাঁকে সেখানেই গুলি করে হত্যা করেছিলো হানাদার বাহিনী, পরে তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে ফেলে।

পবিত্র কুরআন পড়ছিলেন সিরাজ আলীও, পাকিস্তানি মিলিটারি দেখে তিনি উঠে দাঁড়ালে সাথে সাথেই তাঁকে গুলি করে অন্দরমহলের দিকে চলে যায়।

মাদ্রাসায় পড়ালেখা করা অত্যন্ত সহজ সরল ছেলে শফিকুল ইসলাম পাকিস্তানি আর্মিকে সালাম দিয়ে তাঁর ভাইদেরকে মেরেছে কেন এ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করায় তাঁকে বেঁধে নারিকেল গাছতলায় নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

এই নির্মম গণহত্যার সাক্ষী প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন তাঁদের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা বলেন পরবর্তীতে, মরিসন বেগম তাঁর স্বামীর প্রানভিক্ষা চাইলে তাঁর স্বামীকে ঘর থেকে বের করে এনে হত্যা করে পাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।

আনিসুর রহমান ধানক্ষেতে লুকিয়ে দেখেছিলেন পাকিস্তানিদের নির্বিচারে গুলি আর আগুনে পুড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক দৃশ্য, সেকেন্দার আলী লুকিয়েছিলেন কচুরিপানার মধ্যে, সেখান থেকে তিনি দেখেছিলেন গৃহবধূদের ধরে নিয়ে যেতে, ভানু বেগমের আকুতি মিনতি করলেও তাঁকে সেখানে ধর্ষণ করে আগুনে ছুড়ে মেরেছিলো পাকিস্তানিরা, হাত, পা ও পিঠে তাঁর সেই পোড়া দাগ এখনো রয়েছে।

১৫ বছরের কিশোর আব্দুল মান্নান দাদীর হাত ধরে ধানক্ষেতের ভেতরে লুকিয়ে থেকে দেখেছিলেন বাবা মা’কে হত্যার হৃদয়বিদারক দৃশ্য, তার বাবা কুরআন পড়া অবস্থায় গুলি করে হত্যা করেছিল, মা’কে গর্ভবতী অবস্থায় পাশবিক নির্যাতন করে ঘরে আগুন জ্বালিয়ে আগুনে নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিলো।

কিশোর তোফাজ্জল হোসেন দেখেছিলেন, এক ছেলে বাঁচার জন্য “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” বলে নিশান উড়িয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই লাথি দিয়ে ফেলে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। তোফাজ্জল হোসেনের বাবা ও মা দুজনকেই পাকি সৈন্যরা হত্যা করেছিলো সেদিন।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সেদিন কেবল গণহত্যাই করেনি পুরো গ্রামের সাড়ে তিনশো বাড়িঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহানে ভস্ম হয়ে যায় গ্রামের ঘরগুলি, সবুজে ভরা ছাব্বিশা পরিণত হয় লাল রক্তে, জনমানবহীন আর ধোয়ায় ঘেরা ভুতূড়ে গ্রামে পরিনত হয়,

অথচ সেদিন মুসলমান ধর্মের মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন ছিল আর এই পাকিস্তানি বাহিনী দাবী করেছিলো তারাই সাচ্চা মুসলমান।

সুত্রঃবই একাত্তরের রমজান গণহত্যা ও নির্যাতন।

লেখক:সামছুল আলম সাদ্দাম সহ সভাপতি, 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর। 

প্রিয় পাঠক, ডেইলি খবরের ডটকমে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন khoborernews@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

x
%d bloggers like this: