ঢাকাসোমবার , ৫ জুলাই ২০২১
  1. অগ্নিকাণ্ড
  2. অপরাধী
  3. আইন-আদালত সাজা
  4. আত্মহত্যা
  5. আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  6. আবহাওয়া
  7. ইতিহাসের এই দিনে
  8. ইসলাম
  9. কলামিস্ট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. গণমাধ্যম
  15. জাতীয় সংবাদ

পারিবারিক সিদ্ধান্ত মেয়েদের উপর চাপিয়ে দেওয়া কতটা সমর্থন করেন?

নাঈম ভূঁইয়া
জুলাই ৫, ২০২১ ২:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পারিবারিক সিদ্ধান্ত মেয়েদের উপর চাপিয়ে দেওয়া কতটা সমর্থন করেন?

নাঈম ভূঁইয়া

আমাদের দেশের বেশিরভাগ পরিবার ই কিশোরী কিংবা প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের উপর একটা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। সেটা হচ্ছে পরিবার থেকে একটা ছেলেকে পছন্দ করা হয়েছে, এবং সেই ছেলেকেই বিয়ে করতে হবে। কিছু কিছু মেয়ে প্রতিবাদ করতে পারলেও অধিকাংশ পরিবারে প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকে না।

আর একটা মেয়ে শারীরিক ভাবে বড় হয়ে গেলে কিংবা বিয়ের উপযুক্ত বয়সের পরও বিয়ে না হলে সমাজ থেকেও একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় মেয়েকে বা মেয়ের পরিবারকে। সেটা হচ্ছে বিয়ে দিচ্ছেন না কেন? কিংবা বিয়ে হচ্ছে না কেন? তারপর নানান মন্তব্য তো আছেই! প্রায় সময় সমাজের এইসব প্রশ্ন থেকে বাঁচার জন্যও পরিবার একটা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে বাধ্য হয়। দিনশেষে ক্ষতিটা কার হয়? আংশিক পরিবারের, বাকি সবটা ঐ মেয়েটার। তাহলে মেয়েটা যাবে কার কাছে? কারণ তাকে তো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ই দেওয়া হচ্ছে নাহ!

আমাদের দেশে একটা কথা সবসময়ই বলা হয়, বাবা-মা যা করে সন্তানের ভালোর জন্যই করে। আসলে সেটা কতটা ভালো হয়? ইচ্ছের বিরুদ্ধে হুট করে একটা অপরিচিত মানুষের সাথে সংসার করতে দেওয়াটা ভালো চাওয়া? যেখানে কিনা মেয়েটা কি চায়, সেটা একবারও জানতে কিংবা শুনতে চায় না কেউ! আমাদের দেশের অধিকাংশ পুরুষ মানুষের কাছে এখনও বিয়ে মানে সেক্স করা। প্রথম রাতে নিজের পুরুষত্ব প্রমাণের জন্য ঝাপিয়ে পড়ে একদল বোধশূণ্য পুরুষ। এখানে অনেকেই আমার সাথে একমত পোষণ না করলেও, এটাই সত্য। সত্য। এবং সত্যিই। আপনি ভেবে দেখুন। খোঁজ নিয়ে দেখুন। তবে গুটিকয়েক পুরুষের মাঝে পরিবর্তন এসেছে।

এরা একটা মেয়েকে বুঝতে সুযোগ দেয়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয়। কিন্তু সেটা তো গুটি কয়েক! সব মেয়েরা কিন্তু এইরকম ভাগ্যের অধিকারী হয় না। সেক্ষেত্রে তারা চোখ বুঝে মেনে নিতে হয়। সহ্য করতে হয়। কাঁদতে শিখে যায় একা একা। কারণ তার ভরসা করার কেউ নেই। যখন তাকে সারাজীবন কারো সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হয়নি, তখন তাকে ভরসা দিবে কিভাবে পরিবার? বরং বিয়ের পর বর নিয়ে কোনো অভিযোগ করলে সেই পরিবার থেকে আসে ভিন্নরকম উদাহরণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বলা হয়, সময়ের সাথে ঠিক হয়ে যাবে। আসলেই কি হয়? হয়না। কারণ পরিবারের কাছেই যখন একটা মেয়ের সিদ্ধান্ত মূল্যায়ন পায় না, সেখানে একেবারে নতুন একটা পরিবারের কাছে মেয়েটা কোনোরকম টিকে থাকা ছাড়া আর কিছুই না।

সময়ের সাথে সাথে আমাদের দেশের অনেক কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে। বড় বড় দালান হচ্ছে। সবকিছু হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু খুব বেশি মানুষের বোধবুদ্ধি পাল্টাচ্ছে না। একটা মেয়ে কুড়ি বছর পার হলে পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে যাচ্ছে, অথচ একটা ছেলে ত্রিশ পেরিয়ে গেলেও বেকার বলে তার বিয়ে হয়না। সমাজ কিংবা পরিবারের এই দিকগুলো কিন্তু কারো একার পক্ষে পাল্টানো সম্ভব না, কারণ সংখ্যায় অধিক মানুষ মিথ্যা বললে সেই মিথ্যা সত্য হয়ে যায়!

মনে রাখতে হবে, পরিবর্তন টা প্রত্যেকটা পরিবার থেকে শুরু করতে হবে। প্রতিটা মেয়ে তার পরিবারে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। আর যখন মেয়েটা পরিবার থেকে ভরসা পাবে, তাকে সমাজ কোনোরকম দমিয়ে রাখতে পারবেনা। আপনি কোনো মেয়ের বাবা, কিংবা ভাই। আপনি আগে আপনার মেয়ে কিংবা বোনকে বুঝতে শিখুন। সে কি চায় জানুন। আপনি তাকে ভালো পরামর্শ দিন, কিন্তু আপনার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিবেন না। সবসময় রাগী বাবা কিংবা বেপরোয়া ভাই না হয়ে মেয়েটার বন্ধু হতে শিখুন। খুব কাছথেকে ভরসা দিন, যেনো মেয়েটা ভয় পাবার আগে অন্তত একটু সাহস যোগাতে পারে, যে আমার একজন আদর্শ বাবা আছে। একজন আদর্শ ভাই আছে।

পরিবর্তন টা আপনার পরিবার থেকেই শুরু করুন, তারপর সমাজও ঠিক আপনাকে অনুসরণ করবে। তবে স্রোতের বিপরীতে চলতে সাহস লাগে। আর এই সাহস না থাকার কারণেই অনেক পরিবারও নিজেদের সিদ্ধান্ত ঠিক রাখতে পারে না। সমাজ কি বলবে? এইভেবে যখন একটা মেয়েকে আটকাতে চায় কোনো পরিবার, সেই মেয়েটা পৃথিবীর আর কারো কাছে কি সাহস প্রত্যাশা করতে পারে? পারে না। নির্বোধ মানুষগুলো কাছে এই কথাগুলো হয়তো হাস্যকর শোনাবে, কিন্তু তারা আপনাকে কখনোই ভালো পরামর্শ দিবে না। কারণ তাদের বোধশক্তি নেই বলেই তারা নির্বোধ। আপনার যদি মনে হয়, যে আপনি যে সিদ্ধান্ত নিবেন, সেটাই আপনার মেয়ে কিংবা বোনকে মেনে নিতে হবে, তাহলে আপনিও নির্বোধ। মনে রাখবেন আপনিও নির্বোধ। আর আপনার বোধশক্তি হারানোর পেছনের কারণ হচ্ছে সমাজ এবং পরিবারের সিদ্ধান্ত আপনার উপর চাপিয়ে দেওয়া। আপনি সেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই এভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার খেলায় মেতেছেন। আপনি ভুল করছেন, সেটা আপনার ধারণাতেও নেই।

সবশেষে কথা একটাই, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সুযোগ না থাকলে প্রত্যেকটা মানুষই পরাধীন। নির্যাতিত। তারপর একটা সময় সহ্য ক্ষমতা হারিয়ে এই মানুষ গুলো বিগড়ে যায়। প্রতিবাদ করে, তবে সেটা হিংস্র ভাষায়। এই সময়টা নিজেকে পাল্টানোর। সময়টা সিস্টেম পাল্টানোর। এখনও যদি কেউ নিজেদের পাল্টাতে না পারে, উন্মুক্ত স্বাধীন চিন্তাচেতনা না থাকে, তাহলে তারা একটা অসুস্থ এবং ব্যর্থ জীবন পার করছে। এরা নির্বোধ, বর্বর, এবং ভয়ংকর।

লিখেছেন : নাঈম ভূঁইয়া, অনলাইন এক্টিভিস্ট।

 

প্রিয় পাঠক, ডেইলি খবরের ডটকমে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন khoborernews@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

x
%d bloggers like this: