ঢাকারবিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. Campas
  2. International news
  3. Media
  4. Parson
  5. অগ্নিকাণ্ড
  6. অপরাধী
  7. আইন-আদালত সাজা
  8. আত্মহত্যা
  9. আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  10. আবহাওয়া
  11. ইতিহাসের এই দিনে
  12. ইসলাম
  13. কলামিস্ট
  14. কৃষি
  15. ক্যাম্পাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ভবদহ নিয়ে নতুন এক্সপেরিমেন্টঃ“Elevated Flow”(উত্তোলিত প্রবাহ)

আব্দুল আজিজ
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভবদহ নিয়ে নতুন এক্সপেরিমেন্টঃ“Elevated Flow”(উত্তোলিত প্রবাহ)

স্বীকৃতি বিশ্বাস স্টাফ রিপোর্টারঃ

১৯৫৮ সালে সবুজ বিপ্লব বাস্তবায়নের জন্যে যশোর জেলার অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর ও যশোর সদর উপজেলা এবং খুলনা জেলাধীন ডুমুরিয়া,ফুলতলা এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার ৫৪ টি বিলের ১ লক্ষ ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে লবণাক্ততার হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে ও ২৭ টি বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য নেহালপুর ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী টেকা- মুক্তেশ্বরী নদীর ভবদহ নামক স্থানে তৈরি হয় স্লুইসগেট।

ফলে নদীগুলোর উৎস মূল পদ্মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সাগর বাহিত পলি উজানের দিকের হরি-টেকা-মুক্তেশ্বরী, আপারভদ্রা-হরিহর-বুড়িভদ্রা নদী ও এর সাথে সংযুক্ত খালের তলদেশে পড়ে উঁচু হতে থাকে এবং পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ও কুলটিয়াসহ এলাকায় ১৯৮২ সালে প্রথম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং রাস্তাঘাট,স্কুল কলেজসহ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে যা আজও বিরাজমান।

স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে ঐ এলাকার বিলগুলোতে সারাবছরই পানি জমে থাকে এবং ২৭ টি বিল বছরের পর বছর অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকে।ফলে অত্র জনপদের কৃষি, শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিসহ সকল মৌলিক অধিকার ভেঙে চৌচির হয়ে গেছে। যা সারা বাংলাদেশে ভবদহের দুঃখ হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে।

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ভবদহ এলাকার ৮০ গ্রামের কয়েক লক্ষাধিক জনগন আবারও স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ঠিক এরকম একটি মুমূর্ষু সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোর জেলাধীন ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্ভাবনী উদ্যোগ ” Elevated Flow” পাইলটিং প্রকল্প নিয়ে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে একটি সেমিনারের আয়োজন করে।

উক্ত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোঃ রফিকুল হাসান। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চিফ ইনোভেশন অফিসার ( যুগ্ম সচিব) মোঃ আজাদুর রহমান মল্লিক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ – পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একেএম তাহমিদুল ইসলাম, যশোর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পীযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তাওহিদুল ইসলাম।

কিন্তু ভবদহ নিয়ে নতুন উদ্ভাবনী“ Elevated flow” বা “উত্তোলিত প্রবাহ” কার্যক্রম নিয়ে উপস্থানের শুরুতেই তোপের মুখে পড়ে আয়োজক পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

কারণ কয়েক দশক ধরে ভবদহ এলাকার সমস্যা সমাধানে দীর্ঘদিন যাবত নদী ও খাল খনন করা হয়েছে কিন্তু তাতে নদীর নাব্যতা হারিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। এরপরে গতবছরে শুরু হয়েছে সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সেচে বৃহৎ এলাকার জলাবদ্ধ দূরীকরণের জন্য একটি অবাস্তব, কল্পনাপ্রসূত বালখিল্য প্রকল্প।ফলে বিল থেকে পানি তো অপসারিত হয়নি বরং নতুন করে কৃষি আবাদ সম্ভব হয়নি চারশত হেক্টর জমিতে। আর তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি জনগণের আস্থা তালানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

উক্ত সেমিনারে বক্তরা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড গত ৪০ বছর ধরে ভবদহ এলাকার জনগণকে গিনিপিগের ন্যায় কেটে ছিড়ে বৈজ্ঞানিকের ন্যায় পরীক্ষা নিরীক্ষাই করছে কিন্তু ফলাফল শূণ্য।তাদের এই তামাশার কারণে ভবদহ এলাকার ২ শত গ্রামের কয়েক লক্ষাধিক লোক জলাবদ্ধতার স্বীকার হয়ে বাস্তুহারা হওয়ার উপক্রম।

বক্তরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই সকল কল্পনা প্রসূত হরিলুট মার্কা প্রকল্পের কারণে সরকারি অর্থের অপচয়ের জন্য সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান এবং আগামী ডিসেম্বর মাসের আগেই বিল কপালিয়ায় টিআরএম ( টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালু এবং পানি নিষ্কাশনে আমডাঙ্গা খাল প্রশস্ত ও সংস্কারের সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলের বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দাবী করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চিফ ইনোভেশন অফিসার ( যুগ্ম সচিব) মোঃ আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, সরকারের ডেল্টা প্লানে টিআরএম বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ রয়েছে বিধায় টিআরএম বাতিল হবে না।আমরা জনগণের সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দূরত্ব দূর করতে উদ্যোগী হয়েছি।আগামীতে যে প্রকল্পই নেওয়া হবে সেটি স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হবে। সময়ই বলে দিবে কথার সাথে বাস্তবতার কতটা মিল আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে”। তাই আর নতুন নতুন উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের কোন আস্থা নেই। ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নতুন প্রকল্প Elevated Flow অঙ্কুরের বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম।আর তাই স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন , নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খনন করে বিশাল এই জনপদের জীবন মান রক্ষা করার কোন বিকল্প নেই।

প্রিয় পাঠক, ডেইলি খবরের ডটকমে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন khoborernews@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

x
%d bloggers like this: