ঢাকামঙ্গলবার , ৫ অক্টোবর ২০২১
  1. Campas
  2. International news
  3. Media
  4. Parson
  5. অগ্নিকাণ্ড
  6. অপরাধী
  7. আইন-আদালত সাজা
  8. আত্মহত্যা
  9. আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  10. আবহাওয়া
  11. ইতিহাসের এই দিনে
  12. ইসলাম
  13. কলামিস্ট
  14. কৃষি
  15. ক্যাম্পাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

খেজুর গাছের পরিচর্যায় নেমেছে গাছিরা

আব্দুল আজিজ
অক্টোবর ৫, ২০২১ ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খেজুর গাছের পরিচর্যায় নেমেছে গাছিরা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দেশের উত্তরাঞ্চলে শীত অনেকটা আগেই পড়ে। হেমন্ত ঋতুর শুরুতে রাতে উত্তরাঞ্চলে হালকা শীত অনুভূত হয়। হেমন্ত ঋতুর শেষ হতে আর কিছুদিন বাঁকি রয়েছে। এরমধ্যে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় দু’সপ্তাহ থেকেই রাতে শীত অনুভূত হতে শুরু করেছে।

এর ফলে উপজেলার খেজুর গাছের চেহারা বদলাতে শুরু করেছে। গ্রামে খেজুরের সুমিষ্ট রস ও সুস্বাদু গুড়ের আশায় খেজুর গাছের পরিচর্যায় নেমেছে এলাকার গাছিরা। ভালো দামের আশায় গাছিরা আগাম খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি করতে অন্যান্য বছরের ন্যায় চলতি বছরেও আশ্বিনের পর থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কাঁচি হাতে খেজুর গাছের আগা পরিষ্কার করে রস নামানোর কাজ করছেন। সংসারে স্বচ্ছলতার আশায় দিন রাত তাদের এ নিরন্তর প্রচেষ্টা চলবে খেজুর রস থাকাকালীন।

এ সময় পুঠিয়া উপজেলার অধিকাংশ মানুষ সুস্বাদু খেজুরের গুড় উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। কারণ এ সুস্বাদু গুড় গাছিদের শীতকালীন মৌসুমি ব্যবসা।

পুঠিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২৯০ হেক্টর জমিতে খেজুর গাছ রয়েছে ২১ হাজার ৭৫০টি। এতে খেজুর গুড় উৎপাদন হয় তিন হাজার ২৪১ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। চলতি বছরও খেজুর গাছের আগাম পরিচর্যা শুরু করেছেন এ অঞ্চলের গাছিরা। খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় গাছের উপরদিক কেটে ফেলতে হয়। কাটা অংশের নিচে বাঁশ বা গাছের খিল লাগানো হয়। এর মাধ্যমে ফোটা ফোটার রস গাছের খিল দিয়ে হাড়িতে পড়ে। সারা রাত হাঁড়ির ভিতর রস পড়ে ভর্তি হয়। গাছিরা ভোরে গাছ থেকে হাঁড়ি নামান। এভাবেই রস আহরণের কাজ করেন গাছিরা। আহরিত খেজুরের রস দিয়ে পাটালি বা খুরি ও লালি দুই ধরনের গুড় তৈরি করা হয়।

আগাম খেজুরের গুড় তৈরি করতে পারলে বেশি লাভবান হওয়া যাবে বলে তাদের এ প্রচেষ্টা। দড়ি, কাঁচি হাতে খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত বানেশ্বর ইউনিয়নের পালাশবাড়ি গ্রামের কৃষক মোকসেদ আলী বলেন, গত সপ্তাহ থেকে খেজুরের রস অল্প অল্প নামা শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে বাজারে গুড়ের আমাদানি কম থাকে। তাই দামও বেশ ভালো পাওয়া যায়।

একাধিক গাছি জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর খেজুরের গুড় তৈরি করে অধিক লাভবান হওয়া যাবে। উপজেলা সদরের কৃষ্ণপুর, কাঁঠালবাড়িয়া, পালোপাড়া, গোপালহাটি এবং বানেশ্বর ইউনিয়নের, নওদাপাড়া, ভুবননগর, শাহাবাজপুর, ফতেপুর, পালাশবাড়ি, মাইপাড়া, বিড়ালদহ, শিবপুর, নামাজগ্রাম, নায়াপাড়া, জিউপাড়া ইউনিয়নের ধোপাপাড়া, গাঁওপাড়া, বাঁশপুকুরিয়া, ভালুকগাছি ধোকড়াকুল, ইউনিয়নের তেলিপাড়া, নন্দনপুর, নওপাড়া, গোটিয়া শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের কার্তিকপাড়া, ভিক্ষণপুর, লেপপাড়া, ছাতারপাড়া, শুকপাড়া, পচামাড়িয়া, চন্দনমাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় খেুজরের গাছ পরিচর্যা শুরু হয়েছে। এসব এলাকার গাছিরা তাদের তৈরি গুড় পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরহাট ও ঝলমলিয়া হাট ছাড়াও আশে পাশের হাটগুলোতে বিক্রি করেন। পুঠিয়া উপজেলার উৎপাদিত সুস্বাদু গুড় এলাকার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। শীতকালে খেজুরের রস ও গুড় দিয়ে পায়েস, বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন পিঠা তৈরি করা হয়।

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুননাহার ভুইয়া বলেন, খেজুর গাছ চাষ করতে বাড়তি কোন জমির প্রয়োজন হয়না। জমির আইলে অথবা বাড়ির অঙ্গিনায় এই গাছ গুলো হয়ে থাকে। উপজেলার সব এলাকাজুড়ে এই গাছগুলো হয়ে থাকে। এছাড়াও উপজেলার সব এলাকায় খেজুরের গুড় তৈরি করা হয়। গুড় তৈরিতে শত শত মানুষ কাজ করে থাকে। এর ফলে পুঠিয়ার অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে বলে এ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।

প্রিয় পাঠক, ডেইলি খবরের ডটকমে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন khoborernews@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

x
%d bloggers like this: