ঢাকাবুধবার , ১১ মে ২০২২
  1. Campas
  2. International news
  3. Media
  4. Parson
  5. অগ্নিকাণ্ড
  6. অপরাধী
  7. আইন-আদালত সাজা
  8. আত্মহত্যা
  9. আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  10. আবহাওয়া
  11. ইতিহাসের এই দিনে
  12. ইসলাম
  13. কলামিস্ট
  14. কৃষি
  15. ক্যাম্পাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ভবদহের কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ

বার্তাকক্ষ
মে ১১, ২০২২ ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভবদহের কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ

স্বীকৃতি বিশ্বাস স্টাফ রিপোর্টারঃ

 

ভবদহের করাল গ্রাসে আক্রান্ত হয়ে কয়েক দশক ধরে জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার কয়েক লক্ষাধিক কৃষকের চাষাবাদযোগ্য জমি।এর মধ্যে আনুমানিক ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আদৌ বরো আবাদ সম্ভব হয়নি। তবে অভয়নগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এ বছর ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডাঙ্গা এলাকার ৫ শত হেক্টর জমি কৃষকের ব্যক্তি ও সম্মিলিত উদ্যোগে পাম্প সেচ দিয়ে শুকিয়ে আবাদ করেছেন।

এছাড়াও মণিরামপুর, কেশবপুর উপজেলার ভবদহ জলাবদ্ধতা এলাকায় আরো কিছু জমিতে কৃষকেরা পাম্প দিয়ে পানি সেচে শুকিয়ে বোরো আবাদ করেছেন।

 

কিন্তু নিম্নচাপ অসনির প্রভাবে গত ৩/৪ দিন যাবত কখনো মুষলধারে ধারে, কখনও থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ঐ এলাকার কাটা ধান যেমন পানিতে ভাসছে তেমনি না কাটা ধান বাতাসের কারণে নুয়ে পড়ছে এবং পাকাধান ক্ষেতে ঝরে পড়েছে। যা মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে এবং কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে।

 

রামসরা গ্রামের কৃষক তপন মন্ডল বলেন, কৃষি অফিসের নির্দশনা মোতাবেক ১০ মের পূর্বে ধান ঘরে তোলার কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত শ্রমের মজুরি দিয়ে আধা পাকা ধানও কেটে ফেলেছেন। ফলে আমি একদিকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি তেমনি দ্রুত সময়ে ধান তোলার কাজ করতে উৎপাদিত ফসল নষ্টও হয়েছে।

সুন্দলী গ্রামের অশান্ত ধর জানান, তার এলাকার একটি বিল এক মাস যাবত পাম্প লাগিয়ে শুকানো হয়। বিল শুকানোর জন্য তাকে দুই বিঘা (৮৪ শতাংশ) জমিতে প্রায় ৫ হাজার টাকা গুণতে হয়েছে। তাছাড়া বীজ,সার,তেলসহ অন্যান্য খরচ বাবদ বিঘা প্রতি আরও প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উৎপাদিত ফসল তিনি সারা বছরের খোরাক হিসাবে ঘরে তুলে রাখবেন। কিন্তু রবি, সোম ও মঙ্গলবারের ভারি বৃষ্টিতে কাটা ধান ক্ষেতে পানি জমে গেছে। তিনি ওই ধান অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ করে ডাঙ্গায় তুলে শুকাতে দিয়েছেন। এতে তার অনেক ধান ঝরে গেছে এবং খরচও বেশি হচ্ছে। তার মতো অনেক কৃষক এসব কথা জানান।

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা গোলাম সামদানী বলেন, ‘আমরা কৃষকদের পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। তিনি আরো জানান, ভবদহ এলাকার কিছু কাটা ধান ক্ষেতে পানি জমে গেছে। এতে তেমন কোন ক্ষতি হবে না।

তবে সরেজমিনে সুন্দলী,রামসরা,রাজাপুরসহ কয়েকটি গ্রামের ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায় কৃষক ও কৃষণীসহ পরিবারের সকলকেই ধান তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অর্ধেক ধান নির্বিঘ্নে কৃষকের ঘরে উঠলেও এক তৃতীয়াংশ জমিতে কাটা ধান পানিতে ভাসছে। এক তৃতীয়াংশ কাটাধান পালা দিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে শত কষ্টে উৎপাদিত ফসল নষ্ট হয়ে বিঘা প্রতি যে উৎপাদন খরচ হয়েছে তা বিক্রয় মূল্যের চেয়ে অনেক কম হবে।ফলে কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায় কৃষকের ধান চাষের যে স্বপ্ন তা যেমন ভঙ্গ হয়েছে তেমনি ধান চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

প্রিয় পাঠক, ডেইলি খবরের ডটকমে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন khoborernews@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

x
%d bloggers like this: