ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
  1. অগ্নিকাণ্ড
  2. অপরাধী
  3. আইন-আদালত সাজা
  4. আত্মহত্যা
  5. আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  6. আবহাওয়া
  7. ইতিহাসের এই দিনে
  8. ইসলাম
  9. কলামিস্ট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. গণমাধ্যম
  15. জাতীয় সংবাদ
আজকের সর্বশেষ সব খবর

md shaalam
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

“বিশ্ব পর্যটন দিবসঃপুনর্বিবেচনায় পর্যটন – মোঃ সাইফুল্লার রাব্বী

নিজস্ব প্রতিবেদক:২৭ শে সেপ্টেম্বর পর্যটন সম্প্রদায়ের জন্য একটি আনন্দঘন দিন। এই দিনটি পর্যটন পেশাজীবীদের জন্য স্মরণীয় ও বরণীয় দিন। প্রতি বছর মহা সমারোহে বিশ্বব্যাপী বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘের অধীনে গড়ে উঠা বিশ্ব পর্যটন সংস্থা ১৯৮০ সাল থেকে এই দিবসটি উদযাপন করে থাকে। বিশ্ব পর্যটনের সেতুবন্ধন সৃষ্টি ও প্রচার -প্রসার, পর্যটন সচেতনতা, পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে তুলে ধরা এই দিবসটি মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। প্রতি বছর একটি করে প্রতিপাদ্য বিষয় ঠিক করা হয়। যে প্রতিপাদ্য বিষয়কে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থার সদস্য দেশগুলো পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ড চলমান রাখে।

এই বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় Rethinking Tourism বা পর্যটনে নতুন ভাবনা। এই প্রতিপাদ্য বিষয় থেকে স্পষ্ট বুঝতে পারা যায় জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থা তাদের সদস্য দেশগুলোকে কি ইংগিত দিতে চায়। কোভিড ১৯ পুরো পৃথিবীর গোটা সিস্টেমটাকে পাল্টে দিয়েছে বেশ খানিকটা। আমরা আগে যেভাবে বিশ্ব পর্যটন ব্যবস্থাকে চিন্তা করতাম সেই জায়গা গুলোতে অনেক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে পর্যটন ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন ঘটবে। পৃথিবীর বেশির ভাগ পর্যটন নির্ভর দেশগুলো এখনি ভাবতে শুরু করেছে আগামী দিনের প্রতিকূল মুহূর্তগুলোকে মানিয়ে নিয়ে কিভাবে নিজেদের পর্যটন সমৃদ্ধ করা যায়। বিশ্ব পর্যটন দিবসকে সামনে রেখে WTO এই কথাগুলোকে আরো জোরালো করতে এবছর যুগোপযোগী প্রতিপাদ্য বিষয় নির্বাচন করেছেন।

করোনা পরবর্তী অনেক বিষয় নিয়ে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হচ্ছে। পর্যটনের প্রত্যেকটি খাত ও উপখাতগুলিতে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে।আরো কিছু পরিবর্তন আসবে যেটা এখনো আন্দাজ করা সম্ভব হয়নি। নতুন এক বিশ্ব পর্যটন ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পৃথিবী। আমরা ইতিমধ্যে দেখতে পাচ্ছি ভ্রমণ, পর্যটন সেবা, শিক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন নতুন বিষয় গুলো যায়গা করে নিচ্ছে। পর্যটন শিল্পে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে দিনের পর দিন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ই- লানিং, রোবোটিকস ও অটোমেশন, থ্রি ডি প্রিন্টিং, ব্লকচেইন প্রযুক্তি, জিন প্রযুক্তি, কম্পিউটার ক্লাউডিং, ই-বিজনেস এবং ই-ট্যুরিজম ইত্যাদি পর্যটন ব্যবস্থাপনায় স্থান করে নিচ্ছে। পর্যটনে প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলশ্রুতিতে নতুন নতুন কাজের সৃষ্টি, কারিগরি পেশার চাহিদা বৃদ্ধি, শিল্প ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা, অটোমেশনের প্রভাবে কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি হ্রাস, শিল্পে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি, বিশেষায়িত পেশার চাহিদা বৃদ্ধি, সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন বৃদ্ধি৷ ২০২৫ সাল নাগাদ ২০০ বিলিয়ন ইউএস ডলার সংযোগের সম্ভাবনা প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রভাবে (সূত্র-ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ফোর্বস, দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি)।

দিন দিন ই-ট্যুরিজমের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ট্যুরিজমের সাথে জড়িত খাতগুলো যেমন- এয়ারলাইনস, এয়ারপোর্ট, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, থিম পারক,রেস্তোরাঁ, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, জিডিএস কোম্পানিগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে।এয়ারলাইনসগুলো তাদের বুকিং, ইসু,রি-ইসু,রিফান্ড এর মত বিষয়গুলো CRS and GDS (Galileo, Amadeus, Sabre) মাধ্যমে পরিচালনা করছে। মার্কেটিং এর জন্য ব্যবহার করছে ই-প্লাটফর্ম। হোটেল পরিচালনা ও রিজার্ভেশনের জন্য ব্যবহার করছে Property Management System ও Online Reservation System.ট্যুরিজমের বিভিন্ন সেবা ও রিজার্ভেশনের জন্য আরো ব্যবহার করছে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি, Airbnb, Expedia, Sharetrip,Tripadvisor ইত্যাদি। পর্যটন বিষয়ক সেবা ও তথ্য পেয়ে যাচ্ছেন অনলাইন ভিক্তিক মাধ্যম যেমন – ওয়েবসাইট, নিউজ পোটাল, অনলাইন ট্রাভেল গ্রুপ,অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটর থেকে। পৃথিবীর অনেক দেশেই পর্যটকরা প্রযুক্তি মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে তাদের ট্যুর বুকিং থেকে শুরু করে যাবতীয় বিষয়গুলো সম্পন্ন করে থাকেন।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। a2i প্রকল্পের আওতায় পর্যটন শিল্পকে প্রযুক্তিবান্ধব ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশের ট্রাডিশনাল ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটরের পাশাপাশি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটর কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ট্যুরিজম ব্যান্ডিং, ডেস্টিনেশন ব্যান্ডিং, পণ্য ও সেবার বিপণন, ট্যুরিজম ইনফরমেশন প্রচার ও প্রসার সহজতর হয়েছে।ইতিমধ্যেই দেশের মধ্যে অনলাইন ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সি গুলো বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। গ্রাহকেরা ঘরে বসে এয়ার টিকিট, ট্যুর বুকিং, হোটেল বুকিং, ফুড অডারের মত সেবাগুলো পেয়ে যাচ্ছেন। একদিকে তাদের সময় বেচে যাচ্ছে অন্য দিকে ট্রাভেল এজেন্সি গুলোতে যেতে হচ্ছেনা।আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন খাত ও উপখাতগুলোকে নতুন ভাবে সাজানোর পরিকল্পনা এখন থেকে নিতে হবে। বাংলাদেশ সরকার পর্যটন খাতকে নিয়ে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

বাংলাদেশ পর্যটন খাতকে তুলে ধরতে বিশ্ব পর্যটন দিবসে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন,এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ, ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলো প্রতিবছর বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সভা, সমাবেশ,র‍্যালি, পর্যটন মেলা, প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।এই দিবসটি উদযাপনের মূল কারণ বাংলাদেশ তথা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ পর্যটনকে ইতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করা।

মোঃ সাইফুল্লার রাব্বী
প্রভাষক ও কো-অর্ডিনেটর , ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ড্যাফোডিল ইনিস্টিউট অব আইটি।

প্রিয় পাঠক, ডেইলি খবরের ডটকমে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন khoborernews@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

x