ঢাকারবিবার , ৪ এপ্রিল ২০২১
  1. অগ্নিকাণ্ড
  2. অপরাধী
  3. আইন-আদালত সাজা
  4. আত্মহত্যা
  5. আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  6. আবহাওয়া
  7. ইতিহাসের এই দিনে
  8. ইসলাম
  9. কলামিস্ট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. গণমাধ্যম
  15. জাতীয় সংবাদ
আজকের সর্বশেষ সব খবর

মামুনুল হককে চরিত্রহীন বানাতে গিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি কোথায় পৌঁছালো? সাইদুর রহমান রিমন

বার্তাকক্ষ
এপ্রিল ৪, ২০২১ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মামুনুল হককে চরিত্রহীন বানাতে গিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি কোথায় পৌঁছালো? সাইদুর রহমান

হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের স্ত্রী কি না তা নিশ্চিত না হয়েই তাকে যে অপমান-অপদস্হ করা হলো এর নিন্দা জানাবার ভাষা নেই। সরকারি দলের স্থানীয় পান্ডা আর সাংবাদিক নামধারী বখরাবাজরা এ জঘণ্য পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটিয়েছে। এই অপকর্মে সরকারের অন্যতম হাতিয়ার পুলিশের নেপথ্য ইন্ধন ছিল কি ছিল না তা হলফ করে বলা যাচ্ছে না। তবে মাওলানা মামুনুল হককে চরিত্রহীন হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টায় সরকারের ভাবমূর্তি কতোটা উজ্জ্বল হলো সেটাই এখন দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের বিপক্ষে থাকা দল, মত ও ভিন্নমত কে নানা ভাবেই তুচ্ছ করে দমন পীড়নের স্ট্রিম রোলার চালাতে পারে। বিশাল জনমতকেও সরকার চিরতরে নির্বাসনে পাঠাতেই পারে। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত বিরোধী বিশাল আন্দোলন গড়ে তোলা কোনো নেতাকে এত নিম্নমানের তুচ্ছতায় নাস্তানাবুদ করতে পারে তা কল্পনাতীত।
আগে গণবিরোধী সরকার এমনকি স্বৈর শাসক তার অস্তিত্ব ধ্বংসকারী রাজনৈতিক নেতাদের জেলে পাঠালেও তাদের “রাজবন্দীত্বের মর্যাদা” নিশ্চিত করায় কার্পণ্য দেখাতেন না। কিন্তু ভিন্নমতের মাওলানা মামুনুল হক এর ব্যাপারে এ কেমন জিঘাংসা দেখলেন দেশবাসী?
কোনও কিছুরই বেশি বাড়াবাড়ি ভালো নয়। ওখানেতো আরও অনেক দম্পতি গেছেন, ওইসব লোকদের কে দায়িত্ব দিয়েছে যে, সব গ্রাহকের ম্যারেজ সার্টিফিকেট চেক করার। বাংলাদেশে তথাকথিত মিডিয়ার দাপুটে কর্মীদের চরম দৌরাত্ম্য দেখে রীতিমত আতঙ্কিত হয়েছি। এ ব্যাপারে প্রবাসী সাংবাদিক সওগাত আলী সাগর ভাইর মন্তব্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মনে করছি। “’মাওলানা মামুনুল হক একজন নারী নিয়ে রিসোর্টে এসেছেন’-এইটুকু তথ্যের ভিত্তিতে যে সব উৎসাহী লোকজন রিসোর্ট ঘেরাও করেছেন- তাদের আমি বিপদজনক মানুষ মনে করছি। এই ধরনের লোকেরাই ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে’ কিংবা নানা গুজবে বা গুজব ছড়িয়ে নিরাপরাধ মানুষকে মেরে ফেলতে পারে।
মামুনুল হক দাবি করেছেন তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে অবকাশ কাটাতে রিসোর্টে এসেছেন। পরষ্পরের সম্মতিতে দুই জন প্রাপ্ত বয়ষ্ক মানুষ রিসোর্টে অবকাশ কাটাতে গেলে- সেটি বাংলাদেশের কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটে কি না- সেটি আইনজ্ঞরা বলতে পারবেন। মামুনুল হকের বেলায় আইনের চেয়েও নৈতিকতার প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠবে- তিনি যদি সম্পর্কহীন কোনো নারীকে নিয়ে স্রেফ অবকাশ কাটাতে যান। সেই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক এমনকি তার সমালোচনাও করা যেতে পারে। কিন্তু দল বেধে রিসোর্টে তাকে ঘেরাও করাকে কোনোভাবেই উৎসাহ দেয়া যায় না।”
মামুনুল হক তার স্ত্রীর নাম বলেছেন আমিনা তায়্যবে। আর অন্য একটি ভিডিওতে দেখলাম যে এক মহিলা ইন্টারভিউ নিচ্ছে মামুনুল হকের স্ত্রী তার নাম বলছে জান্নাত আরা ঝর্ণা। চক্রটি যখন মামুনুল হক সাহেবকে নারী কেলেঙ্কারী দিয়ে বাগে ফেলতে পারছে না, তখন মিথ্যা ভিডিও তৈরি করে অপপ্রচারে মেতে উঠেছে। ক্ষুব্ধ ফেসবুক ব্যবহারকারী একজন তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন এভাবে…
১. মামুনুল হক সাহেবের সামনে যখন তাঁর স্ত্রীর গায়ে হাত দেওয়ার জন্য কুলাঙ্গার রা এগিয়ে গিয়েছিল তখন তাঁর স্ত্রীর গায়ে কালো বোরকা পড়া ছিল। আর জান্নাত আরা এর ভিডিও তে মহিলাটি নীল কালার এর বোরখা পড়েছে।
২. জান্নাত আরার ভিডিওটি বাথরুমে করা হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। বাথরুমের দরজা খোলা। বাইরে এত শোরগোল হচ্ছে অথচ জান্নাত আরার ভিডিওতে সেসবের বিন্দুমাত্র শোনা যাচ্ছে না। আজব না?
৩. ভিডিওতে এক সময় জান্নাত আরা হেসে উঠেন। এহেন পরিস্থিতিতে কি কোনো মেয়ে হাসতে পারে?
৪. দেখা যাচ্ছে যে ভিডিওতে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এক ম্যাক্সি আর ওড়না পড়া মহিলা? প্রশ্নটি হচ্ছে ম্যাক্সি আর ওড়না পড়া মহিলা এখানে আসলো কোথা থেকে? কোনো ম্যাক্সি আর ওড়না পড়া মহিলা পুলিশকে কেউ কোথাও দায়িত্ব পালন করতে দেখেছেন?

আফসার উদ্দিন নামে একজন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা জানিয়েছেন, মাওলানা মামুনুল হক থাকেন মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং-এ এবং তাঁর কর্মস্থল সাত মসজিদ নামে পরিচিত “জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায়”। তিনি সেখানকার শাইখুল হাদিস। তাঁর আরো তিন ভাইও ইসলামী স্কলার। তাঁর পিতা শাইখুল হাদিস আজিজুল হক। আমার বাসা মামুনুল হক সাহেবের বাসা এবং মাদ্রাসা থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ। আমি এই এলাকায় ২৫/২৬ বছর ধরে থাকি। যদিও তাঁর সাথে আমার সামনাসামনি কখনো দেখা হয় নি। তবে তাদের ফ্যামিলির কোন বদনামও কখনো শুনিনি। গতকাল নারায়ণগঞ্জের সোনার গাঁয়ে মামুনুল হক সাহেবের সাথে সংঘটিত অনভিপ্রেত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের অতি উৎসাহী সমর্থকদের কিছু উচ্ছাস ফেসবুকে দেখেছিলাম। তাদের আশা পূর্ণ না হওয়ায় এক সাগর সমবেদনা।
সংবাদকর্মি মাহবুবুল আলম প্রিয় লিখেছেন, ফিটিংবাজদের কাছ থেকে বাঁচতে এমন স্থায়ী পাঞ্জাবি কিনতে পারেন!!! দেশের যেখানে পর্যটনকেন্দ্র সেখানেই ওঁত পেতে থাকে ফিটিংবাজরা।।তারা তাদের কুনজরে রাখে ঘুরতে যাওয়া কপোত-কপোতীদের। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের কবলে বৈধরাও হয়রানী হয়। সর্বস্ব খোয়ায়। আমার কথা হলো অবৈধদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে কেন? সন্দেহ হলে পুলিশ আছে, তাদের খবর দিলেই তো হয়। আর অবৈধ হলে তো কথাই নেই। ছেলেটা মেরে মেয়েটার সর্বনাশ করে সব লুটে পুটে নেয় তারা। তাই নিরাপদ পরিবেশের বড্ড অভাব। আমাদের রূপগঞ্জের পূর্বাচল, সোনারগাঁওয়ের যাদুঘর ও পানাম সিটিও এমন ফিটিংবাজদের বাইরে নয়। ছোটকালে শুনতাম, যদি কেউ যায় পানাম, ফিরে না সে আনাম। তবে কোন ইসলামী স্কলার যখন বিতর্কিত কাজে জড়ায় আমরা মুসলিম হিসেবে ব্যথিত হই। আর ষড়যন্ত্র হলে আল্লাহ বিচার করবেন। ঘটনা সত্য হলে তাকে বয়কট করতে হবে। অন্ধ দলকানা, ধর্মকানা হলে মহা বিপদ।
ফেসবুক ব্যবহারকারী আরেকজন তো রীতিমত হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দিয়েছেন। মামুনুল হক ও তার স্ত্রীকে স্থানীয় যুবলীগের কর্মিরা এহেন হেনস্তা করেছে শুনেই তিনি সোনারগাও থানা যুবলীগের সভাপতি নান্নু সাহেবের পরকীয়ায় জড়ানোর প্রমানটাই তুলে ধরেছেন ফেইসবুক স্ট্যাটাসে। বুঝাতে চেয়েছেন, যারা নিজেরাই অপকর্মে জড়িত তারা বৈধতাকেও পরকীয়ার নজরে দেখতেই বেশি অভ্যস্ত।
তবে মামুনুল হক ইস্যু নিয়ে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ লেখাটি প্রকাশ করেছেনসিংবাদকর্মি এ কে সালমান। মামুনুল হকের বিষয় নিয়া নাচানাচি করে পেটে যখন ক্ষুধা লাগছে। তখন চিন্তা করলাম আজকের মতো নাচানাচি বন্ধ করে চাল কিনে বাসায় গিয়ে খেয়ে দেয়ে ঘুম দেই আপাতত।
কিন্তু বাজারে চাল কিনতে গিয়ে দেখি চালের দাম ৭২ টাকা। এটা শুনে পেটের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ক্ষুধা দৌঁড় মারতে চাইলো। দৌঁড়াইয়া কোন রকম ক্ষুধাকে আটকালাম। বললাম বেডা দাম আকাশচুম্বী তাতে কি একটা পাউরুটি আর ডিম কিনে নিয়ে সয়াবিন তেল দিয়ে ভাইজা তো খাইতে পারমু। গেলাম ডিম কিনতে। ডিমের হালির দাম শুনে মাথাটা ক্ষানিক ঘুরতে লাগলো। ৯ টাকা দামের ডিম ১৪ টাকা। ভাবলাম পাগল হইয়া গেছে দোকানদার। পাশের দোকানে যেতেই চোখে পড়লো চকচক করা সয়াবিন তেলের বোতল। ভাবলাম তেল টা আগে নিয়ে নেই। তেলের দাম জিজ্ঞেস করতেই দোকানদার কয় ভাই তেল ১৪০ টাকা লিটার। এটা শুনে অজ্ঞান হয়ে পড়েই গেলাম। তখন কেউ পানি দিচ্ছে মাথায় কেউ টেবিলে শুইয়ে দিচ্ছে। একজন বললো একটু লেবুর শরবতের ব্যবস্থা করলে কিছুটা সুস্থ হয়ে যাবে। একজন পাশেই থাকা ভ্যানের উপর লেবু দেখে বললো। এইতো লেবু কাছেই আছে। এক হালি কিনে দেই বাসায় গিয়ে বাকিগুলো শরবত বানিয়ে খেতে পারবে। লেবুর দোকানদারকে বললো ভাই এক হালি লেবু দেন। দোকানদার লেবু প্যাকেট করে দিলো। এবার ভদ্রলোক ২০ টাকা বের করে দিয়ে বলে এই নেন। দোকানদার বললো ভাই মশকারা করেন? এক হালির দাম ৮০ টাকা। আপনি ২০ টাকা দেন কিভাবে? এই শুনে অজ্ঞান অবস্থায় দিলাম দৌঁড়।
(দেখছেন, বাঙ্গালী ব্যবসায়ীগো কান্ড? মামুনুল হক ইস্যু দাঁড় করাইয়া নিত্যপন্যের দাম বাড়াইয়া দিলো। আর আমগো হেই দিকে খেয়ালই নাই। আবার সামনে নাকি লক ডাউন? এই লক ডাউনে কে খাবে কার মাথা, কে জানে?)

লেখক: সাঈদুর রহমান রিমন অনুসন্ধানী সাংবাদিক দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন। লেখাটি লেখকের ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত।

প্রিয় পাঠক, ডেইলি খবরের ডটকমে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন khoborernews@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

x
%d bloggers like this: