ঢাকামঙ্গলবার , ৬ এপ্রিল ২০২১
  1. Campas
  2. International news
  3. Media
  4. Parson
  5. অগ্নিকাণ্ড
  6. অপরাধী
  7. আইন-আদালত সাজা
  8. আত্মহত্যা
  9. আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  10. আবহাওয়া
  11. ইতিহাসের এই দিনে
  12. ইসলাম
  13. কলামিস্ট
  14. কৃষি
  15. ক্যাম্পাস

মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে কিছু কথা- ডাক্তার আরিফুর রহমান

বার্তাকক্ষ
এপ্রিল ৬, ২০২১ ১২:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশেষ প্রতিবেদন।

মাওলানা মামুনুল হক সাহেবকে নিয়ে আমি কখনো লিখিনি, হেফাজতের মতিঝিল সমাবেশের সময় সেই বিক্ষোভের রাজনীতিকরন নিয়ে লিখেছিলাম অনেক বছর আগে। এখন চারিদিকে হেফাজতের মওলানা মামুনুল হকের দ্বিতীয় বিয়ের আমল নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে যে কথাগুলি পড়ছি তাতেও চুপ থাকবো ভেবেছিলাম। কিন্তু নাস্তিক, আস্তিক, হিন্দু, খ্রিস্টান সবাই অনলাইন হাদিস কোরআন ঘেঁটে মাওলানার বিয়ের ব্যাপারে যেভাবে মনগড়া ঢালাও ফতোয়া দিচ্ছেন তখন আর চুপ করে থাকা গেলোনা।

আমি নিজেকে আল্লাহর দ্বীনের একজন নগন্য মূর্খ দায়ী মনে করি, সেই হিসাবে বিয়ের ইসলামিক রুলিংগুলি সামনে আনা দরকার হয়ে পড়েছে এই মুহূর্তে। আল্লাহ আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন।

মামুনুল হককে কোন একটি মহল টার্গেট করে তাকে গোপনে অনুসরণ করে,তার ফোনালাপ রেকর্ড করে, তার প্রাইভেট নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে জবরদস্তি তাকে বেইজ্জতি করতে চেয়েছে সূক্ষ্ণ পরিকল্পনা করে, এটি এখন পরিষ্কার। তবে এর পেছনে কোন রাজনীতি, কোন দেশ বা বিদেশের কারো কোন ইন্টারেস্ট আছে কিনা সেটা রাজনীতির ব্যাপার, আমি সেটিতে ঢুকবনা।

আমার আলোচনার পেরিমিটার শুধু ইসলাম ধর্ম নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে নয়। মুমিনুল হকের নেতা হবার ক্যারিয়ার বিধ্বংসী বহুল আলোচিত এই রিসোর্ট কাহিনীর শেষ দাঁড়িয়েছে দুটি প্রশ্নে।

১) মামুনুল হক কি ঝর্নাকে বিয়ে করেছেন?

২) বিয়ে করলে সেটি কি শরীয়া মতে বৈধ?

এই দুটি প্রশ্নের বিভিন্ন রকম উত্তর দিচ্ছেন মিডিয়া থেকে মাতব্বর সবাই। আক্রমনের ধরণ দেখে বোঝা যায়, অনেকেই প্রমান করতে উঠে পড়ে লেগেছেন, ইসলাম ধর্ম নিয়ে যারা চিল্লাচিল্লি করেন, তাদের পেছনে গোপন বিরাট অন্ধকার ফুটো থাকে।

ইসলামিক অনৈসলামিক সব মানুষ মাত্রেরই ভুল আছে, সব মানুষেরই গোপন পাপ আছে। যার যখন সময় তখন সে অন্যের দোষ খুঁজে প্রকাশ করতে পারে, সময় ফুরালে তাদের দোষে তারাই আবার মরে। এটি ইউনিভার্সাল রুল, এইটি নিয়েও আমার কোন মাথাব্যথা নেই।

কিন্তু যখন হাদিস কোরআনের ভুল রেফারেন্স দিয়ে কেউ কিছু মিথ্যা প্রমান করতে চাইবেন তখন চুপ করে থাকা যাবেনা। এটি আল্লাহর আইন “আমলে মারুফ ও নেহি আনিল মুনকারে’র মধ্যে পড়ে যায়, এর অর্থ হচ্ছে সৎকাজে আদেশ অসৎকাজে নিষেধ করা।

এখন প্রথম প্রশ্নের জবাবে আসি। কালের কণ্ঠের সংবাদে মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা নারীর পিতামাতার বক্তব্যে জানা যায়, ওই নারীর নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা (২৭)। তার পিতা কুলধর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ অলিয়ার রহমান ওরফে পাগলা অলি মিয়া। তিনি গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সেনা সদস্য। ঝর্ণার বাবা-মা জানান, জান্নাত আরা ঝর্ণার ১১ বছর বয়সে খুলনা জেলার সোনাডাঙ্গা এলাকার হাফেজ শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে হয়। এ দম্পত্তির ঘরে আব্দুর রহমান ও তামীম নামে দুজন পুত্র সন্তান আছে। সন্তান দুটি তার বাবার বাড়ি খুলনায় থাকেন।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো: ওয়াহিদুজ্জামান ঝর্ণার প্রথম বিয়ের বিষয় ও সন্তানদের তাদের বাবার কাছে খুলনায় থাকা নিশ্চিত করেছেন।

এজন্যে সম্ভবতঃ মামুনুল হক তার বউয়ের বাড়ী খুলনা বলেছিলেন। খুলনার হাফেজ শহীদুল্লাহ ছিলেন মামুনুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ঝর্ণার সাথে ডিভোর্স হবার পরে মামুনুল দুবছর আগে ঝর্নাকে বিয়ে করেন বলে জানান তারা।

এই বিষয়ে ঝর্ণার বাবা অলিয়ার রহমান বলেন, ‘আমার মেয়ের সাথে জামাতা শহিদুল ইসলামের পারিবারিক কলহের কারণে প্রায় তিন বছর আগে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। তারপর থেকে দুই বছর আগে আমরা পাত্র দেখে মেয়েকে বিবাহ করার কথা বললে, মেয়ে বলতো আমার বিয়ে হয়েছে।”

কালের কন্ঠ অনুযায়ী ঝর্ণার মা শিরীনা বেগম বলেন, ‘শুধু একবার ভিডিও কলিং এর মাধ্যমে স্বামী মামুনুল হককে দেখিয়েছিলো কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি তিনি মাওলানা মামুনুল হক ছিলেন।’

মায়ের এই বক্তব্যে ঝর্ণার দাবী অনুযায়ী তাদের দু বছরের পুরানো বিয়ে অথবা সম্পর্ক প্রমাণিত হয়ে যায়। রিসোর্টের ঘটনার দিন ঝর্ণা ক্ষনিকের অতিথি ছিলেন না সেটিও প্রমাণিত হয় এই সাক্ষ্যে।

মামুনুল হক প্রথম ভিডিওতে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম জানতে চাইলে তিনি আমেনা তাইয়েবা বললেও তার নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা। প্রাপ্ত পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী রিসোর্টের রেজিস্ট্রি থেকে জানা গেছে বউয়ের নাম আমেনা তাইয়েবা লেখা হলেও সেই নাম আসলে তার প্রথম স্ত্রীর। সেটি কেন লিখেছেন জানিনা, সম্ভবতঃ দ্বিতীয় বিয়েটি তিনি সর্বসমক্ষে জানাতে চাননি।

যাইহোক, এক নম্বর প্রশ্নের উত্তরে সন্দেহাতীত ভাবে বোঝা গেল ঝর্ণা পার্লার কর্মী বা গার্মেন্টস কর্মী যাই হোন না কেন, তিনি আর মামুনুল অনেকদিন ধরে বিবাহিত দম্পতি।

তবে আরেকটি রহস্য অমীমাংসিত রয়েছে। সেটি হলো, মামুনুল তার প্রথম স্ত্রীকে ফোনে ঝর্নাকে শহিদুলের স্ত্রী বলেছেন কেন?

এটির উত্তর হচ্ছে, সম্ভবতঃ মামুনুল তার প্রথম স্ত্রীকে দ্বিতীয় বিবাহের কথা দুবছর যাবৎ লুকিয়ে রেখেছিলেন। সেদিন ধরা খেয়ে নাস্তানাবুদ অবস্থায় বড়ো বউয়ের কাছে বানিয়ে ছানিয়ে একটি এডভান্স কৈফিয়ত দিয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বজায় রাখা, যুদ্ধ ক্ষেত্রে শত্রুর প্রশ্নের জবাবে ও জীবন বাঁচানোর জন্যে মিথ্যা বলা জায়েজ আছে। মামুনুল সেটি চিন্তা করে হয়তো বলেছেন শহিদুলের পুরানো স্ত্রী, কথাটি মিথ্যা নয়, কিন্তু নিজের বউ বলার সাহস হয়তো হয়নি তার।

কিন্তু মওলানা মামুনুল আর তার প্রথম স্ত্রীর টেলিফোন ফাঁস হওয়া আলোচনা থেকে উপরের কথাগুলি এসেছে। এইভাবে জবরদস্তী কোনো স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ফোন- আলোচনা রেকর্ড করে প্রচার করা একটি বড় চোগলখুরীর কবীরা গুনাহ। যারা এটি করেছেন তারা নিজেদের গুনাহের কথা না ভেবে শুধু মাওলানা মামুনুল কোন কোন গুনাহ করেছেন সেটার পেছনে লেগেছেন। কারণ তাদের উদ্যেশ্য ধর্ম নয়, মরালিটি নয়, সেটি অন্যকিছু।

এই গোপন চোগলখুরি বিষয়ে ইসলাম ধর্মের রুলিং হযরত ওমর(রা) দিয়ে গেছেন। একবার রাতের বেলা একটা বাড়ীর ভেতর থেকে সুরেলা আওয়াজ শুনতে পেয়ে খলিফা উমর (রা) নিজে সেই বাড়ীর প্রাচীরের উপরে উঠে দেখলেন, ঘরে এক পুরুষের পাশে মদ, অদূরে এক মহিলাও রয়েছে।

খলিফা চিৎকার করে বললেন, ওরে আল্লাহর দুশমন! তুই কি ভেবেছিস যে, আল্লাহর নাফরমানী করবি, আর আল্লাহ তোর গোপন অভিসার ফাঁস করবেন না?

জবাবে সে বললো, “আমিরুল মোমেনীন, তাড়াহুড়ো করবেন না। আমি যদি একটি গুনাহ করে থাকি, আপনি করেছেন তিনটি গুনাহ। আল্লাহ মানুষের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়াতে নিষেধ করেছেন কিন্তু আপনি দোষ ত্রুটি খুঁজছেন। আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন, কারো বাড়িতে ঢুকলে দরজা দিয়ে ঢুকতে, কিন্তু আপনি প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে ঢুকেছেন। আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে, নিজের বাড়ি ছাড়া অন্যের বাড়িতে অনুমতি না নিয়ে ঢুকতে। কিন্তু আপনি আমার অনুমতি ছাড়াই আমার বাড়িতে প্রবেশ করেছেন।”

এ জবাব শুনে হযরত ওমর(রা) নিজের ভুল স্বীকার করলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন না। তবে তার থেকে অংগীকার আদায় করলেন যে, সে পাপের পথ ত্যাগ করে সৎ পথে ফিরে আসবে।

সেই ইসলামিক রুলিং অনুযায়ী অনুমতি না নিয়ে কারো একান্ত কথাবার্তা ইচ্ছামত শোনা যাবেনা। আড়ি পেতে ফোনালাপ শোনা শরীয়ত সম্মত নয়। মামুনুল শরীয়া আইন বিরোধী কাজ করেছেন বলে যারা তাকে কুপোকাত করতে চাচ্ছেন তারা নিজেরাই ইসলাম বিরোধী কাজ করে বসে আছেন। তাই তাদের জন্যে এটি লিখলাম। অবিশ্যি সরকার বলে, তারা মদীনা সনদের নীতিতে চলে তবে শারিয়ায় নয়, তাই সরকারের নাগরিকদের ফোনে আড়িপাতা তাদের ইচ্ছার ব্যাপার। আল্লাহর দরবারের মোকদ্দমা অবিশ্যিই হবে আখেরাতে, জাররা বা অনু পরিমান অপরাধেরও বিচার হবে।

এখন দ্বিতীয় প্রশ্ন। মাওলানা মামুনুলের বিয়ে কি শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ?

হানাফী মাজহাব অনুযায়ী কোনও কুমারী কন্যার বিয়ে দিতে তার পিতামাতা বেঁচে থাকলে তাদের অনুমতি নিতে হবে, বেঁচে না থাকলে তার দাদা, নানা, মামা, চাচা, ভাই যারা মাহরাম তার ওয়ালী হয়ে বিয়ে দিবেন। এই মাসলাহটি এসেছে বোখারী ৬৮৬৯ থেকে।

পবিত্র কোরানেও বলা হয়েছে, “তোমরা তাদের অভিবাবকদের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে করো, যথাযথভাবে তাদের মোহর প্রদান করো, যেন তারা বিয়ের দুর্গে সুরক্ষিত হয়ে থাকতে পারে এবং অবাধ যৌনচর্চা ও গোপন বন্ধুত্বে লিপ্ত হয়ে না পড়ে।

সূরা নিসা-২৫

আর বিধবা,তালাক প্রাপ্তা, সিঙ্গেল মাদারদের বিয়ের জন্য সব মাজহাবেই পিতামাতা বা মাহরামের উপস্থিতি বা অনুমতি আবশ্যকীয় নয়। কাজীর সামনে দুজন সাক্ষী রেখে কনের বিয়ের সম্মতি উচ্চারণ শুনে হবু স্বামী থেকে দেন মোহরানা নিয়ে এই ধরনের নারীরা বিয়ের চুক্তি করতে পারবেন।

এই ফতোয়া যে হাদিস থেকে এসেছে সেটি হলো,– “বিন্তি খুদম বলেছেন যে তিনি যখন বিধবা হয়েছিলেন তখন তাঁর পিতা তাঁর বিবাহের কথা বলেছিলেন। তিনি সিদ্ধান্তটি পছন্দ করেন নি তাই তিনি মুহাম্মদের (স) কাছে গেলেন, যিনি তাকে তাঁর বিবাহ প্রত্যাহার করার অনুমতি দিয়েছিলেন। রেফারেন্স: আল বুখারী, আল জামি`আল-সহিহ,৯১৯।

বাংলাদেশের মুসলিম বিয়ে আইন শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, এটি দেওয়ানী চুক্তিও। এই আইনে পূর্ণাঙ্গ বিয়ের জন্য ১)পুরুষের নিম্নে ২১ আর নারীর নিম্নে ১৮ বছর বয়স হলে, ২) পারস্পরিক সম্মতি থাকলে, ৩) দেনমোহর নির্ধারিত হলে, ৪) সুস্থ মস্তিষ্কের প্রাপ্তবয়স্ক ২ জন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ দুইজন নারী সাক্ষী থাকলে বিয়ের আইনী নিবন্ধন করা যাবে।

শরীয়া আর বাংলাদেশী উপরোক্ত বিয়ে আইনে মামুনুল হক ঝর্নাকে সহজেই বিয়ে করে থাকতে পারেন। তার ব্যক্তিগত কারণে তার কিছু ঘনিষ্টজনেরা এই বিয়ে সম্মন্ধে জানতো, পাবলিককে তারা জানান নি। কিন্তু ইসলামী মতে এবং মরালী এই বিয়ে হালাল ও জায়েজ।

ইসলামে সিক্রেট ম্যারিজ নেই। বিয়ে গোপন রাখা যাবেনা বলে যে শারিয়ার রুলিং আছে তার মানে এই নয় যে মাইকে এলাকায় ভাইসব.. বলে ঘোষণা দিতে হবে। বিয়ে মূলতঃ একজন নর ও নারীর “নিকাহ” চুক্তি। নিক আরবী শব্দ যার অর্থ যৌন সঙ্গম। কাজীর সামনে সরকারী কাগজ কাবিনে বর কনের স্বাক্ষর আর দুজন সাক্ষী জানলেই বিয়ে প্রকাশিত হয়ে গেলো। বাইরের লোক খাওয়ানো সুন্নাহ ও সামাজিক প্রথা,–ফরজ বা ওয়াজিব নয়।

বিবাহিত পুরুষের হালাল যৌনকামনা, বিধবা এবং তালাকপ্রাপ্তা নারীদের একাকীত্ব বিবেচনা করে সৌদি আরবের সুন্নী গ্র্যান্ড মুফতী মরহুম শায়েখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ রাহিমাহুমুল্লাহ “নিকাহ মিশিয়ার” বলে একটি জনপ্রিয় ফতোয়া দিয়েছেন বহু বছর আগে। মিসিয়ার বিবাহে স্বামী/স্ত্রীরা তাদের নিজস্ব ইচ্ছায় একটি, দু’একটি বা বেশ কয়েকটি অধিকার ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে একসঙ্গে বসবাস, বহু বিবাহের ক্ষেত্রে স্ত্রীদের মধ্যে রাতের সমান বিভাজন, স্ত্রীর আবাসনের অধিকার (সুকনা) এবং আর্থিক সহায়তা (নফাকা)। এই ফতোয়ার বিয়ে ব্যবস্থার মূল কথাটি হ’ল দম্পতিরা আগের মতো একে অপরের থেকে পৃথকভাবে নিজের আগের পরিবারের সাথেই বসবাস করতে পারবে এবং তারা যখন ইচ্ছা তখন বৈধ পদ্ধতিতে তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারে তাদের পছন্দের জায়গায়। দেখা গেছে, বিধবা নারী অথবা সিঙ্গেল মাদারদের সন্তান নতুন বাপকে পছন্দ করেনা, অথবা বিপত্নীক বাপের সন্তানদের সাথে সৎ মায়ের বনিবনা হয়না, আবার বিবাহিত পুরুষদের অতিরিক্ত যৌন কামনা থাকতে পারে। এইসব সামাজিক সমস্যার মানবিক ও ইসলামিক হালাল সমাধান দেয়ার জন্যে এই ফতোয়া এসেছে। সৌদি আরবে এই প্রথার ব্যাপক প্রচলন আছে, এই বিয়ের জন্যেও কাজী ও সাক্ষী ও সরকারী কাগজে লিখিত চুক্তি হয়। বাইরে ঢালাও ভাবে এই বিয়ের কথা গোপন থাকে। এই ফতোয়ায় প্রথম বউয়ের কোন লিখিত বা মৌখিক অনুমতির দরকার হয়না। বাংলাদেশে প্রথম বউকে না জানিয়ে বিয়ে করলে তিনি মামলা করলে স্বামীর এক হাজার টাকা জরিমানা ও একমাসের জেল হতে পারে, তবে এটি ইসলামিক রুলিং নয়।

মামুনুল হক কোন রুলিং অনুসরণ করে তার দ্বিতীয় বিয়ে গোপন রেখেছেন তা তিনি আল্লাহর সাথে পরিষ্কার রাখলেই হলো। বাংলাদেশের বিয়ে আইনে নিকাহ দফ বাজিয়ে প্রচার করতে হবে, সবাইকে খাইয়ে জানাতে হবে এমন কোন ধারাও নেই।

“মিশিয়ার নিকাহ’র”র ফতোয়া নিয়ে বিস্তারিত জানার লিংক এখানে– https://islamqa.org/hanafi/daruliftaa/8376

এইসব ফিকহ ও ফতোয়ার ভিত্তিতে সম্ভবতঃ তার দ্বিতীয় বিয়ের হালালত্ব নিয়ে মওলানা মামুনুল হক মুবাহালার মতো সর্বোচ্চ কসম খেয়ে ফেলেছেন।

দশম হিজরীতে নাজরান থেকে আগত একদল পাদ্রী ইসলাম ধর্ম মানব রচিত, খ্রিস্ট ধর্ম সহী বলে হযরত ঈসা (আ)’র ব্যাপারে তর্ক-বিতর্ক করতে থাকে। কিন্তু তারা মুহাম্মাদ (স)এর যুক্তি ও সত্য মেনে নিতে অস্বীকার করে।

তখন আল্লাহর আয়াত নাজেল হয়,”হে নবী আপনার কাছে যে জ্ঞান এসেছে, তা নিয়ে যারা আপনার সঙ্গে ঝগড়া করে তাদেরকে বলুন এসো, আমরা আমাদের ও তোমাদের পুত্রদের, আমাদের ও তোমাদের নারীদের এবং স্বয়ং আমাদেরকে ও স্বয়ং তোমাদেরকে মুবাহালার জন্য আহবান করি। তারপর প্রার্থনা করি যে, মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক।” সুরা আলে ইমরান: ৬১

আল্লাহর হুকুম অনুসারে আল্লাহর এই নির্দেশে নবী (স) পারস্পরিক অভিশাপের প্রস্তাব দেন। নাজরানের খ্রিস্টানদের প্রধান তার টিমকে বললেন, প্রস্তাব মেনে নাও। কিন্তু যদি দেখ, মুহাম্মদ (স) সত্যিই তাঁর ঘনিষ্ঠজনকে মুবাহালার জন্য নিয়ে এসেছে তবে তা করা থেকে বিরত থাকবে।

মহানবী (স) কন্যা ফাতেমা, জামাতা আলী এবং তাঁদের দুই পুত্র হাসান ও হোসাইনকে নিয়ে এলেন মুবাহালার জন্যে। খ্রিস্টান প্রধান বললেন, আমি এমন কিছু চেহারা দেখতে পাচ্ছি, যদি তাঁরা দোয়া করেন, তাহলে পাহাড় টলে যাবে এবং যদি আমাদের ওপর অভিশাপ দেন, তাহলে আমরা একজনও জীবিত থাকব না। এ অবস্থায় তারা পারস্পরিক অভিশাপ মুবাহালায় যোগ দিতে অস্বীকার করল।

সীরাতে ইবনু হিশাম ২/৪১২; তাফসীরে ইবনু কাসীর ১/৩৭৪; তাফসীরে বাগাবী ২/৪৮।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যুম আল জাওযিয়্যাহ রহ: বলেন,

“গোড়ামির উপর অটল থেকে গোয়ার্তমি করলে সুন্নাহ হচ্ছে, তাদেরকে মুবাহালার আহবান করা। কেননা আল্লাহ মুহাম্মাদ (স)কে এই কাজের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবং তিনি একথা বলেননি যে, আপনার পরে এই বিধান আপনার উম্মতের জন্য প্রযোজ্য হবেনা।”

মামুনুল হক উপায়ান্তর না দেখে হয়তো তার শেষ আধ্যাতিক অস্র মুবাহালার মতো ভয়ংকর বিষয় ঘোষণা করেছেন। তিনি নিশ্চয়ই জানেন কেউ মিথ্যা বললে চল্লিশ দিন থেকে একবছরের মধ্যে মুবাহালার প্রভাব কার্যকরী হয় আল্লাহর কুদরতে।

এই হলো বিয়ে নিয়ে শরীয়ার প্রায় যাবতীয় রুলিং যাদের ধর্ম ইসলাম ও যারা সুন্নী তাদের জন্যে। শিয়াদের কিছু ব্যতিক্রমী ফতোয়া আছে।

রাজনীতির কথা বলবোনা বলেছিলাম, তবে শুধু একটা কথা না বললে বুকটা ভারী হয়ে থাকবে। দেশের আলিয়া ও কওমী ধারার স্বীকৃত ৩৩৭১০টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখেরও বেশি। মাওলানা মামুনুল হকের মতো বক্তাদের কথার গরমে মাদ্রাসার ছাত্ররা বার বার রাস্তায় নেমেছে। কখনো ইসলাম কায়েম, কখনো মোদী ঠেকাও, কখনো গন আন্দোলন শুরু করানোর পায়তারা হয়েছে। কখনো সার্থক হয়নি তাদের আন্দোলন, উল্টা আঠারোজন মাদ্রাসার এতিম গরীব ছাত্র বুলেট খেয়ে মরে গেলো। মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্যে কেউ কাঁদে না। ওরা মরলে কেউ শহিদ আসাদ হয়না, শহীদ নূর হোসেন হয়না। কিন্তু তাদের বহমান রক্তের ধারা শুকানোর আগে যখন আঠারো পরিবারের ঘরে ঘরে যাওয়ার দরকার ছিলো মামুনুল হকের মতো নেতাদের, সেখানে তিনি তা না করে তার লুকানো দ্বিতীয় হালাল স্ত্রীকে নিয়ে রিল্যাক্স হানিমুন করতে গেলেন। আর গেলেন বলেই এই পরিস্থিতির উদ্ভব হবার সুযোগ হলো। যারা ইসলাম ধর্ম পালন ও প্রচার করেন তারাও অসংখ্য বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন।

তবে যা কিছু চারিদিকে হচ্ছে তার আল্টিমেট প্লান সবাই বোঝে। শেখ হাসিনার সরকারকে পছন্দ হয়না? জোর করে বসে আছেন? তো কাকে আনবেন? হজরত ওমরের (রা) মতো কেউ কি আছেন?

ছবি: এবারের হেফাজতের আন্দোলনে নামা কচি মাদ্রাসার শিশু দল। হাতে লাঠি মুখে শিশু সুলভ দুষ্টামির হাসি। ওরা কিন্তু পাকিস্তান থেকে আসেনি, আমাদেরই সন্তান। এইরকম পঞ্চাশ লক্ষ শিশুকে ইসলামের নামে বিভ্রান্ত করতে দেয়া যাবেনা। ওদেরকে ভালোবাসা দিন।

প্রিয় পাঠক, ডেইলি খবরের ডটকমে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন khoborernews@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

x
%d bloggers like this: